| বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের ছোট স্টেডিয়ামেও গ্যালারি ফাঁকা, দক্ষিণ কোরিয়ার জয় | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-06-2026 ইং
  • 5530 বার পঠিত
বিশ্বকাপের ছোট স্টেডিয়ামেও গ্যালারি ফাঁকা, দক্ষিণ কোরিয়ার জয় | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: বিশ্বকাপের ছোট স্টেডিয়াম

আক্রন স্টেডিয়ামে হাজারো খালি আসন, ফিফার ‘অভূতপূর্ব চাহিদার’ দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাল উদ্বোধনী ম্যাচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে রেকর্ড ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মাঠের উত্তেজনা ছড়ালেও গ্যালারির এক ভিন্ন চিত্র বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার বিখ্যাত আক্রন স্টেডিয়ামে (Akron Stadium) গ্রুপ পর্বের ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে এশিয়ার পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মাঠের এই রোমাঞ্চকর ফলাফলের চেয়েও ফুটবলপ্রেমীদের চোখে বেশি বিঁধেছে স্টেডিয়ামের হাজারো খালি আসন।

চলতি বিশ্বকাপের নির্ধারিত ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে আক্রন স্টেডিয়াম আয়তনের দিক থেকে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম। ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, ছোট স্টেডিয়াম হওয়ায় ম্যাচের সব টিকিট মুহূর্তেই শেষ হয়ে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো, ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির একটি বড় অংশ খাঁ খাঁ করতে দেখা গেছে।

টিকিটের আকাশচুম্বী দামই কি মূল কারণ?

খেলার মাঠে দর্শক খরা ও আসন খালি থাকার পেছনে ফিফা কর্তৃক টিকিটের চওড়া ও চড়া মূল্যকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন সাধারণ সমর্থকরা। জানা গেছে, এই ম্যাচের নিচের স্তরের (Lower Tier) সাধারণ একটি টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৫০০ মার্কিন ডলার। এছাড়া সাইডলাইনের উপরের সারিগুলোর টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০০ ডলার। আর ভিআইপি বা হসপিটালিটি সিটের (Hospitality Seats) টিকিটের দাম ছিল চোখ কপালে তোলার মতো—৫,০০০ ডলারেরও বেশি! সাধারণ ফুটবল ভক্তদের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে ম্যাচ দেখা সম্ভব হয়নি।

অথচ বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার ঠিক আগেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আজ পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের ৬০ লাখেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এবারের আসরে টিকিটের জন্য বিশ্বজুড়ে যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা ফুটবল ইতিহাসে সম্পূর্ণ অভূতপূর্ব।” তবে ইনফান্তিনোর সেই দাবির সঙ্গে আক্রন স্টেডিয়ামের মাঠের চিত্রের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

দর্শক সংখ্যা নিয়ে ফিফার ধোঁয়াশা ও চেকদের অনীহা

ম্যাচ শেষে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে আক্রন স্টেডিয়ামের দর্শক সংখ্যা জানিয়েছে ৪৪,৯৮৫ জন, যেখানে স্টেডিয়ামের মোট ধারণক্ষমতা ৪৫,৬৬৪। ফিফার এই দাবি অনুযায়ী মাত্র কয়েকশ আসন খালি থাকার কথা। কিন্তু টিভি স্ক্রিন ও মাঠে উপস্থিত সাংবাদিকদের চোখে গ্যালারির হাজার হাজার আসন স্পষ্ট খালি দেখা গেছে। ফিফার দেওয়া এই সংখ্যাটি কেবল মোট টিকিট বিক্রির কাগুজে হিসাব, নাকি গেটে স্ক্যান করে আসা প্রকৃত দর্শকের হিসাব—সাংবাদিকদের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

অন্যদিকে, ইউরোপের দেশ চেক প্রজাতন্ত্র (চেকিয়া) মাত্র গত মার্চ মাসে বেশ দেরিতে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। উপরন্তু, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর সূচি অনুযায়ী তাদের সবচেয়ে বেশি দূরত্বের পথ বা মাইল পাড়ি দিতে হচ্ছে। টিকিট প্রাপ্তিতে বিলম্ব এবং যাতায়াতের বিপুল খরচের কারণে মেক্সিকোর এই ভেন্যুতে চেক সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য, যা গ্যালারি ফাঁকা থাকার অন্যতম কারণ।

শুরুতে গোল হজম করেও কোরিয়ার রোমাঞ্চকর জয়

গ্যালারি ফাঁকা থাকলেও মাঠের ফুটবল ও রোমাঞ্চে কোনো কমতি ছিল না। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের রক্ষণভাগের দারুণ নৈপুণ্যে কোনো গোলের দেখা মেলেনি। তবে দ্বিতীয়াল্ধের শুরুতেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। খেলার ৩টি গোলই আসে ম্যাচের দ্বিতীয়ভাগে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে গোল করে প্রথমে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কোরিয়ানরা। গতিময় ফুটবল খেলে দারুণভাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। পাল্টা আক্রমণে চেক রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে পরপর দুটি চমৎকার গোল করে দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধানে এক জাদুকরী ও রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এশিয়ার এই ‘টাইগাররা’।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency